একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করত মণি। তার পরিবারে মা, বাবা, এবং ছোট ভাই ছিল। মণির বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। তিনি প্রতিদিন ভোরবেলা বের হয়ে খাটুনির কাজ করতেন, যাতে সবার মুখে খাবার তুলে দিতে পারেন। মণির মা গৃহিণী হলেও সংসার চালাতে নিজের হাতে শাক-সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করতেন।
m m
কিন্তু একদিন হঠাৎ মণির বাবার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। প্রথমে তেমন গুরুত্ব না দিলেও, ব্যথা দিনে দিনে বাড়তে থাকল। এক পর্যায়ে বাবা আর কাজ করতে পারলেন না। মণির মা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে তাকে ডাক্তার দেখালেন। ডাক্তার জানালেন যে তার বাবার পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে, যা অপারেশন না করলে আরও ভয়ানক হতে পারে।
এটা শুনে মণির মা পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে গেলেন। অপারেশন করানোর জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এই অবস্থায় টাকা জোগাড় করা তাদের জন্য যেন অসম্ভব। ঋণ নিয়ে কিছু টাকা তারা জমিয়ে রেখেছিল, কিন্তু তা দিয়েও চিকিৎসার খরচ সম্ভব ছিল না। মণির মা একদিন চুপচাপ বসে বসে ভাবছিলেন, তখন মণি তার পাশে গিয়ে বলল, “মা, আমি কাজ করব।” মা হতবাক হয়ে তাকালেন মণির দিকে। মণি মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়ে, তার নিজের জীবন গড়ার সময়।
m m
তবু পরিবারের জন্য মণি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে গ্রামের এক চাচার দোকানে কাজ শুরু করল। অল্প বেতনে কাজ করতে কষ্ট হলেও পরিবারের জন্য সে সব সহ্য করল। কিছু টাকা জমিয়ে মণি বাবার চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করতে লাগল। গ্রামের মানুষও তার কষ্ট দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল।
অবশেষে, অনেক কষ্টের পর মণির বাবা সুস্থ হলেন। তবে মণির জীবন থেকে তার পড়াশোনার স্বপ্নটা হারিয়ে গেল। কিন্তু মণির ত্যাগ আর সংগ্রাম পরিবারের মুখে আবারও হাসি ফিরিয়ে আনল। তার মা-বাবা গভীর কৃতজ্ঞতায় মণির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি আমাদের জীবনের সত্যিকারের আশীর্বাদ।”
মণি বুঝল, জীবনের সুখ আর শান্তি শুধু নিজের স্বপ্ন পূরণে নয়, পরিবারকে ভালো রাখতে, তাদের জন্য ত্যাগ করতেও হয়।
m m
Comments
Post a Comment