একটা ছোট্ট গ্রাম ছিল যেখানে নদীর পাশে বয়ে যাওয়া হাওয়া আর পাখির কলতানে মানুষের দিন কাটত। গ্রামের নাম ছিল শান্তিপুর। সেখানে এক ছেলেও ছিল, নাম তার রাজু। রাজু ছিল গ্রামের সবচেয়ে চঞ্চল ছেলে। সারাদিন বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা, গাছে ওঠা, নদীতে গোসল, হেসে-খেলে তার দিন কেটে যেত।
m m
একদিন রাজুর মাথায় একটা নতুন বুদ্ধি এল। সে ভাবল, “গ্রামে একটা বড় অনুষ্ঠান করলে কেমন হয়?” সবার আনন্দের জন্য সে একটা মেলা করার পরিকল্পনা করল। রাজু আর তার বন্ধুরা মিলে সবার ঘরে ঘরে গিয়ে বলল যে, তারা একটা মেলার আয়োজন করছে যেখানে গান-বাজনা, খেলার স্টল আর মজাদার খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।
গ্রামের সব লোকজন খুব খুশি হল। সবাই মিলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল। কেউ মেলা সাজানোর দায়িত্ব নিল, কেউ খাবার বানানোর। রাজু আর তার বন্ধুরা মেলার জন্য নানা ধরনের খেলাধুলা এবং পুরস্কারের ব্যবস্থাও করল। বাচ্চাদের জন্য দোলনা, নারকেল ছোঁড়া, বয়স্কদের জন্য মাটির হাঁড়ি ভাঙার খেলা রাখা হল।
m m
মেলা শুরু হল, আর পুরো গ্রাম আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে গেল। মেলার মূল আকর্ষণ ছিল যাত্রাপালার পরিবেশনা। সন্ধ্যায় মঞ্চে উঠে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা নানা নাটক আর গান-নাচ করল। সবাই হেসে-খেলে খুব আনন্দ করল। রাজুর উদ্যোগ আর গ্রামবাসীর ঐক্যপূর্ণ সহযোগিতায় সেই মেলা অনেক বছর ধরে চলল, হয়ে উঠল শান্তিপুরের ঐতিহ্য।
রাজু দেখল, একসাথে কাজ করলে আর আনন্দ ভাগাভাগি করলে জীবন কত সুন্দর হয়ে ওঠে। এভাবেই শান্তিপুর গ্রামের মানুষ একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
m m
Comments
Post a Comment